মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ Kharg Island–এ যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বিমান হামলার পর পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump খারগ দ্বীপে হামলার দাবি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান জানিয়ে দেয়, তাদের তেল অবকাঠামোর ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
ইরানের সরাসরি হুমকি
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর Khatam al-Anbiya Central Headquarters–এর এক মুখপাত্র জানান, যদি ইরানের তেল স্থাপনাগুলোর ওপর সামান্যতম আঘাতও আসে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে Al Jazeera জানায়, মুখপাত্র বলেন—
“আমাদের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যেসব তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি স্থাপনায় মার্কিন কোম্পানির অংশীদারিত্ব আছে, সেগুলো আমরা মাটির সাথে মিশিয়ে দেব।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত এমন প্রতিটি স্থাপনা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি মূলত Saudi Arabia, United Arab Emirates এবং Kuwait–এ থাকা মার্কিন বিনিয়োগকৃত তেলক্ষেত্রগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করছে।
ট্রাম্পের দাবি
এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, United States Central Command মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের “মুকুটের মণি” হিসেবে পরিচিত Kharg Island–এর প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
খারগ দ্বীপ মূলত ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার এবং দেশটির অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
ট্রাম্প আরও বলেন—
“আমি এখনো দ্বীপটির মূল তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে আমি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে এক মুহূর্তও দেরি করব না।”
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান সত্যিই আঞ্চলিক তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলা চালায়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতেই বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন এমন একটি কৌশল গ্রহণ করেছে যেখানে নিজেদের ক্ষতি হলে শত্রুপক্ষের আঞ্চলিক মিত্রদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

0 Comments