Advertisement

Responsive Advertisement

ইরানের দিকে অগ্রসর মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’, স্থল অভিযানের আশঙ্কা

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ সংঘাতের ১৫তম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবার ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাপানের ওকিনাওয়া থেকে রওনা হয়েছে মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি শক্তিশালী দল।



জাপানে অবস্থানরত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা বর্তমানে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’-এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএস ত্রিপোলি একটি বিশেষায়িত অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ, যা সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলভাগে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম নামিয়ে দিতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রয়োজনে ইরানের উপকূলীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করা বা কৌশলগত কোনো পয়েন্টে দ্রুত অভিযান চালানোর লক্ষ্যেই এই মেরিন বাহিনীকে পাঠানো হয়েছে। এতে করে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

এদিকে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা নড়াচড়া লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একটি অস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এর আগে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন।

পেজেশকিয়ানের উত্থাপিত তিন দফা দাবি হলো:

  • ইরানের সার্বভৌম অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি

  • ভবিষ্যতে দেশটির ওপর আর কোনো হামলা হবে না—এমন আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি

  • একটি টেকসই শান্তি চুক্তি

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর পরপরই প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে ইরান, যা ধীরে ধীরে বৃহৎ আকারের সংঘাতে রূপ নেয়।

তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবিত দাবিগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক তৎপরতার এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখনো শেষ হওয়ার পথে নয়।

Post a Comment

0 Comments