সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যম কালবেলা-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে প্রকল্পের খরচে এসব কর্মকর্তা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন, সেই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি এখনো আশানুরূপ নয়। প্রকল্পটির ব্যয় ইতোমধ্যে দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। শুরুতে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যে এইচভিএসি (HVAC) সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (IMED) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— সেই সিস্টেমের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক এই সফরে গেলেও তার চাকরির মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। ফলে এই প্রশিক্ষণ তার জন্য কতটা কার্যকর হবে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া যেসব কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন, তাদের কেউই সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এমনকি নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ কাজেও তাদের সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ নেই বলে জানা গেছে। তবুও তাদেরই এই সফরে পাঠানো হচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
নথিপত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ এই আট কর্মকর্তার সফরের যাবতীয় খরচ বহন করবে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিশ্বজুড়ে চিলার ও HVAC সিস্টেম সরবরাহ করে থাকে। বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহ করেছে ডানহাম-বুশ। দেশের কয়েকটি বড় শপিংমলেও তাদের সরবরাহ করা সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সফর করলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এতে সরবরাহ করা পণ্যের মান বা কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
এ কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও নীতিগত পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
RA TV News – নির্ভরযোগ্য খবর সবার আগে।

0 Comments