মাদারীপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ বছরের এক নাবালিকা কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরীকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে পৃথক স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত দাদা ও নাতি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পশ্চিম আলিপুর এলাকার এক যুবক ওই কিশোরীর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অপহরণ ও পাশবিক নির্যাতন
অভিযোগ উঠেছে, গত ৪ মার্চ সকালে কৌশলে ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে তাকে কালকিনি এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর দাবি অনুযায়ী, সেখানে প্রথমে তাকে নওয়াব আলী সরদার (দাদা) ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে তাকে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করেন নওয়াব আলীর নাতি মিলন সরদার। টানা কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসা
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মীর রায়হান জানান, ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিশোরীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের পুলিশ ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
"এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
সবশেষ আপডেট জানতে চোখ রাখুন RA TV-তে।


0 Comments