Advertisement

Responsive Advertisement

কুড়িগ্রামে নিখোঁজ ২ বছরের শিশু আয়শার মরদেহ উদ্ধার | শরীরে অসংখ্য ক্ষত, এলাকায় চাঞ্চল্য

 কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২ বছর বয়সী শিশু আয়শা সিদ্দিকার নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ইনসেটে নিহত শিশু আয়শা সিদ্দিকা আশুরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আয়শা সিদ্দিকা আশুরা নামের ওই শিশু শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। সে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি আলমগীর হোসেনের একমাত্র কন্যা।

নিখোঁজের পর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি

শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পরিবার ও স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, এলাকায় মাইকিংসহ সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আয়শা ছিল পরিবারের সবার আদরের। একমাত্র সন্তান হওয়ায় তাকে ঘিরেই ছিল মা-বাবার সমস্ত স্বপ্ন ও ভালোবাসা।

রাতেই মিললো নিথর দেহ

অনেক খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় স্থানীয়রা বাঁশের কঞ্চির ওপর পড়ে থাকা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়।

পরে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠায়।

শরীরে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন

স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল, এমনকি একটি চোখেও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এই নির্মম দৃশ্য দেখে এলাকাবাসী হতবাক হয়ে পড়েন।

পরিবারের অভিযোগ

নিহত শিশুর বাবা আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার মেয়েকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান,
“আয়শা সিদ্দিকা নামে ২ বছর বয়সী একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে কিছু ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এলাকায় শোক ও ক্ষোভ

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি এমন নৃশংস ঘটনার বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সচেতনতার প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো জরুরি

Post a Comment

0 Comments