মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে RAF Akrotiri ঘিরে। সাইপ্রাসে অবস্থিত এই ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে গত রবিবার (১ মার্চ) একটি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা ঘটে।
প্রথমদিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হামলার পেছনে সরাসরি Iran-এর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে নতুন তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে—ড্রোনটি সরাসরি ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়নি।
ড্রোনের উৎস এখনো রহস্য
UK Ministry of Defence জানিয়েছে, ড্রোনটির ধরন ও উড্ডয়ন ক্ষমতা বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি ইরান থেকে আসেনি।
তবে ড্রোনটি ঠিক কোন এলাকা থেকে পাঠানো হয়েছিল বা এর পেছনে কারা জড়িত—তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, রবিবার একটি ‘শাহেদ’ সদৃশ ড্রোন রাডার এড়িয়ে খুব নিচ দিয়ে উড়ে এসে ঘাঁটির একটি হ্যাঙ্গারে আঘাত হানে। এতে সেখানে সাময়িক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
লক্ষ্য ছিল মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের হ্যাঙ্গার
জানা গেছে, আঘাতপ্রাপ্ত হ্যাঙ্গারটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের U-2 গোয়েন্দা বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতো।
তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি এবং ভেতরে থাকা কোনো সামরিক সরঞ্জামেরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
পার্লামেন্টে মন্তব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগেই এই ড্রোনটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
সাইপ্রাস–ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা
এই ঘটনার পর Cyprus ও United Kingdom-এর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সাইপ্রাস সরকার অভিযোগ করেছে, ড্রোন হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র Konstantinos Letymbiotis ঘটনাটিকে অব্যবস্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে লন্ডনে নিযুক্ত সাইপ্রাসের হাই কমিশনার Kyriakos Kouros বলেছেন, স্থানীয় মানুষ এই ঘটনায় আতঙ্কিত ও হতাশ।
নিরাপত্তা জোরদার করছে ইউরোপ
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব John Healey সাইপ্রাস সফর করেছেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ঘাঁটির নিরাপত্তা বাড়াতে ইতোমধ্যে France ও Greece সাইপ্রাসে F-16 যুদ্ধবিমান ও ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
এছাড়া United Kingdom একটি রয়্যাল নেভি ডেস্ট্রয়ারও পাঠিয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ আক্রোতীরি ঘাঁটি?
বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাসের এই আক্রোতীরি ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা সামরিক অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বিশেষ করে Israel–Gaza War চলাকালে এখান থেকে শত শত নজরদারি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছিল।
তবে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর সম্ভাব্য অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত Diego Garcia ঘাঁটিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের সন্দেহ
কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলার মতো কৌশল ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
তাদের মতে, এই ঘটনার পেছনে Israel-এর ভূমিকা থাকতে পারে—যদিও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

0 Comments