সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার প্রবাসী যুবক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
💥 হামলার ঘটনা
গত ৮ মার্চ, পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের Al Kharj শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
এই হামলায় ‘আল তোয়াইক বলদিয়া’ কোম্পানির ক্যাম্পে অবস্থানরত মামুনসহ কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী গুরুতর আহত হন।
ঘটনাস্থলেই দুই প্রবাসী নিহত হন:
-
কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া
-
টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন
🏥 চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মামুনকে Dr. Sulaiman Al Habib Hospital হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিস্ফোরণে তার শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে যায়, যা তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন করে তোলে।
দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
👨👩👧 পরিবার ও পরিচয়
নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন ছিলেন:
-
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার
-
রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের বাসিন্দা
-
পিতা: শহীদ সওদাগর
তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার বাবা।
😢 স্বজনদের আহাজারি
মামুনের মামাতো ভাই শাওন মোড়ল বলেন:
“আমার ভাই ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। রাতে চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর খবর জানান। তার মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
⚠️ প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই ঘটনার পর সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শ্রমিক ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে।
📊 উপসংহার
সৌদি আরবের এই মর্মান্তিক ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা কতটা ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করেন।
মামুনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি।

0 Comments