ঢাকা, বাংলাদেশ: বৈশ্বিক মেমোরি চিপ সংকটের সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশে স্মার্টফোনের খুচরা মূল্য বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিআরএএম (DRAM) এবং এনএএনডি (NAND) ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফোনের খুচরা মূল্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।
২০২৫ সালের শেষ থেকে শুরু হওয়া মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি ২০২৬ সালে আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও নেপালে মূল্য সমন্বয়ের পর বাংলাদেশের বাজারেও এই প্রভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাজেট বা এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনে দাম বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে, যেখানে উপকরণ খরচ ২০–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মিড-রেঞ্জ ফোনের খরচ ১০–১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর প্রিমিয়াম ফোনেও উপকরণ খরচ বাড়ার কারণে দাম বাড়াতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মেমোরি সংকটের মূল কারণ হলো এআই-নির্ভর ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোর ব্যাপক ব্যবহার। উৎপাদিত মেমোরির বড় অংশ এসব খাতে চলে যাওয়ায় স্মার্টফোনের জন্য সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে অন-ডিভাইস এআই ফিচার যুক্ত হওয়ায় বেশি র্যাম ও শক্তিশালী প্রসেসরের প্রয়োজন, যা উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশে মূল্য-সংবেদনশীল বাজারে ক্রেতারা এখন সাশ্রয়ী, টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্সের ফোনের দিকে ঝুঁকছেন। তবে সব ব্র্যান্ড সমানভাবে এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত নয়। উচ্চ-মার্জিন ব্র্যান্ড তুলনামূলকভাবে চাপ সামাল দিতে পারলেও, কম মার্জিনে ব্যবসা করা ব্র্যান্ডগুলো—বিশেষ করে বাজেট ফোনে—বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

0 Comments