ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংঘর্ষ ও সহিংসতায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় দেশটির বিভিন্ন হাসপাতাল উপচে পড়ছে আহত ও নিহতদের ভিড়ে। চিকিৎসা দিতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন চিকিৎসক ও হাসপাতালকর্মীরা।
বিবিসিকে দেওয়া তথ্যে তেহরানের একাধিক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে। অনেক তরুণের মাথা ও বুকে সরাসরি গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বিক্ষোভ দমনে ইরানের সহিংস অভিযানের জবাবে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি পুনরায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে—যুক্তরাষ্ট্র দেশটির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস নাশকতায় রূপ দিচ্ছে।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ইরান এখন স্বাধীনতা চায় এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তায় প্রস্তুত।
“অনেক তরুণের মাথা ও বুকে সরাসরি গুলি লেগেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হচ্ছে।”
তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা গুলি ও রাবার বুলেটের আঘাতে আহত অসংখ্য মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছেন। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে, বিক্ষোভ দমনে ইরানের সহিংস অভিযানের জবাবে সামরিক হামলার হুমকি পুনরায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে—যুক্তরাষ্ট্র দেশটির শান্তিপূর্ণ সরকারবিরোধী আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ব্যাপক ভাঙচুরে রূপ দিচ্ছে।
ইরানের অভিযোগের জবাবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন,
“ইরান এখন স্বাধীনতা চায়—সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।”
ইরানে চলমান এই সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

0 Comments