Advertisement

Responsive Advertisement

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ভেঙে পড়ছে উত্তর ইসরায়েল | মেয়রের কান্না, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ

লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর অবিরাম রকেট হামলার মুখে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে চরম আতঙ্ক, অস্থিরতা এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত সাইরেন, বিস্ফোরণ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় মেয়র ও কাউন্সিল প্রধানরা সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, আর কেউ কেউ আবেগে ভেঙে পড়ে কাঁদতেও দেখা গেছে।

সরকারি সূত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল বৈঠকে উত্তরাঞ্চলের মেয়রদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন। তিনি স্বীকার করেন, বিশেষ করে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের অল্প সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

🚨 সতর্কবার্তা ছাড়া হামলা, আতঙ্কে মানুষ

বিশেষজ্ঞদের মতে, Hezbollah-এর রকেট হামলার অন্যতম ভয়াবহ দিক হলো—এসব হামলার আগে কার্যত কোনো কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায় না। ফলে সাইরেন বাজলে বাসিন্দাদের হাতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য থাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময়।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে, বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

⚖️ ‘নর্দান শিল্ড’ প্রকল্পের ব্যর্থতা

মাত্তে আশের আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান মোশে দাভিদোভিচ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ২০১৮ সালে ঘোষিত ‘নর্দান শিল্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী হাজার হাজার ঘরে বোম শেল্টার তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালেও সেই প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।

তার অভিযোগ, সরকারের বাজেট কাটছাঁটের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কার্যত থমকে গেছে। ফলে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজারের বেশি অ-আবাসিক ভবন এবং অসংখ্য বাড়ি রকেট হামলার মুখে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

😢 মেয়রের কান্না, আবেগঘন বক্তব্য

উত্তরাঞ্চলীয় মার্গালিওট মোশ্যাভের প্রধান ইতান দাভিদি এক আবেগঘন বক্তব্যে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। সম্প্রতি রকেট হামলায় নিহত ২৭ বছর বয়সী নুরিএল দুবিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তরুণ আগামী সেপ্টেম্বরে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।

দাভিদি বলেন, “ইসরায়েল আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখন লেবাননের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।” তার কণ্ঠে ছিল হতাশা, ক্ষোভ এবং অসহায়ত্বের মিশ্রণ।

🏙️ জনশূন্য হয়ে পড়ছে শহর

উত্তরাঞ্চলীয় শহর Kiryat Shmona-এর মেয়র আভিচাই স্টার্নও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “লেবানন বা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জয়-পরাজয় যাই হোক, যদি আমাদের একটি শহরই ধ্বংস হয়ে যায়, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পরাজয়।”

তিনি আরও জানান, প্রায় ২৪ হাজার মানুষের এই শহরে বর্তমানে মাত্র ১০ হাজার বাসিন্দা অবশিষ্ট রয়েছে। বাকিরা নিরাপত্তার অভাবে ইতোমধ্যেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তার আশঙ্কা, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই শহরটি সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়বে।

স্টার্ন জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৪ হাজার ৭০০টি অরক্ষিত ঘরবাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে যারা শারীরিকভাবে দুর্বল বা অসুস্থ, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

🌍 যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি Iran এবং Israel-এর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে লেবানন সীমান্তেও, যেখানে Hezbollah সক্রিয়ভাবে রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবারও হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।

📢 বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও সরকারের চ্যালেঞ্জ

যদিও ইসরায়েল সরকার দাবি করছে যে তারা হিজবুল্লাহ ও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করছে, তবে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

সাইরেনের শব্দ, রকেট বিস্ফোরণ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝে আটকে পড়া এই মানুষগুলোর জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, বরং পুরো অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

📌 উপসংহার

উত্তর ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি সীমান্ত সংঘাতের চিত্র নয়, বরং এটি একটি মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতা মানুষকে ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে।

মেয়রদের কান্না, বাসিন্দাদের ক্ষোভ এবং সরকারের প্রতি অনাস্থা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারে।

Post a Comment

0 Comments